ছবি আসল না এআই—বুঝবেন কিভাবে
অনেকে মনে করেন, নাপাক অবস্থায় সাহ্রি খেলে রোজা হবে না। কিন্তু ইসলামের সঠিক বিধান এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার এবং বাস্তবসম্মত।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরীর পবিত্র থাকা শর্ত নয়। অর্থাৎ, কেউ যদি অপবিত্র (নাপাক) অবস্থায় সাহ্রি খান এবং সুবহে সাদিকের পর গোসল করেন, তবে তার রোজা পুরোপুরি শুদ্ধ হবে। সাহ্রি খাওয়ার জন্য পবিত্র হওয়া জরুরি নয়, তবে নামাজের জন্য পবিত্র হওয়া ফরজ।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) ও উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) অপবিত্র অবস্থায় সুবহে সাদিক অতিবাহিত করতেন। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন।" (সহিহ বুখারি: ১৯২৬, সহিহ মুসলিম: ১১০৯)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সাহ্রির সময় গোসল ফরজ থাকলেও সেই অবস্থায় খাবার গ্রহণ করা এবং রোজা রাখা জায়েজ।
যদি সাহ্রির সময় এতই কম থাকে যে গোসল করতে গেলে সাহ্রির সময় শেষ হয়ে যাবে, তবে বুদ্ধিমানের কাজ হলো গোসল না করেই সাহ্রি খেয়ে নেওয়া। কারণ সাহ্রি খাওয়া সুন্নাহ এবং সময় শেষ হওয়ার আগে তা সম্পন্ন করা জরুরি। গোসল সাহ্রির পরেও করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো:
সাহ্রি খাওয়া জায়েজ হলেও মনে রাখতে হবে, পবিত্রতা অর্জনে দেরি করা অনুচিত। সূর্য ওঠার আগেই যেহেতু ফজরের নামাজ আদায় করতে হয়, তাই সাহ্রি খাওয়ার পর দ্রুত গোসল করে নামাজ পড়া ফরজ। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ কাজা করা বড় গুনাহ।
যদি সাহ্রির সময় গোসল করা সম্ভব না হয় এবং রোজা শুরু হয়ে যায়, তবে রোজা রাখা অবস্থায় গোসল করার সময় দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়:
দ্বীনি মাসয়ালা অনুযায়ী, ফরজ গোসল না করে সাহ্রি খাওয়াতে কোনো বাধা নেই এবং এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। ইসলাম আমাদের জন্য ইবাদতকে সহজ করেছে। তাই অযথা দুশ্চিন্তা না করে সঠিক নিয়ম মেনে ইবাদত করা উচিত।
Comments
Post a Comment